
মহতোছিন আলী চৌধুরী'র সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত
নাম: মহতোছিন আলী চৌধুরী
পিতাঃ মুনশী ছত্তার আলী চৌধুরী
মাতাঃ আলিজা বানু চৌধুরী
স্ত্রীঃ বখতুননেছা চৌধুরী
স্থায়ী ঠিকানাঃ
গ্রাম-হোসেনপুর, ডাকঘর-কাদিপুর, উপজেলা-কুলাউড়া, পোষ্টকোড-৩২৩০, জেলা-মৌলভীবাজার।
সংক্ষিপ্ত বংশ পরিচিতিঃ
হোসেনপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী চৌধুরী বংশে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১লা জানুয়ারী ১৯২৫ ইং সনে তাঁর জন্ম। বংশ পরম্পরায় তৎকালীন স্বরপঞ্চ (পঞ্চায়েত প্রধান) ছিলেন। শিক্ষার বাতিঘর হিসেবে তাঁর খ্যাতি সর্বজনবিদিত। পূর্বপুরুষের আমল থেকে তাঁদের পরিবারকে Land Lord হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। দানশীল পরিবার হিসেবে এলাকায় তাঁদের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। দেশ ও এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে, শিক্ষা বিস্তারে, শিল্প বিকাশে এবং সফল শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর পরিবারের সুনাম দেশের গন্ডি পেরিয়ে ইতোমধ্যে বিদেশেও বিস্তৃতি লাভ করেছে। তাঁর পরিবারের এই কৃতি তাদের পূর্বপুরুষের (বংশের) অতীত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বহন করছে। তিনি ৩রা আগষ্ট, ১৯৯৫ ইং সনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকাবাসী তখন গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত হয়। তাঁর অন্তিম জানাযায় সহস্রাধিক লোক অংশগ্রহণ করে।
সংক্ষিপ্ত পারিবারিক পরিচিতিঃ জনাব মহতোছিন আলী চৌধুরী ২(দুই) পুত্র ও ৪(চার) কন্যা সন্তানের জনক। তাঁরা সকলেই উচ্চশিক্ষিত ও খ্যাতিমান। ধনাঢ্য পরিবার হিসেবে এলাকায় তাঁদের সু-খ্যাতি বহুকালের।
শিক্ষা ও কর্মময় জীবনঃ পড়াশোনার গন্ডি পেরিয়ে তিনি শিক্ষা, সংস্কৃতি তথা বহুমুখী নানাবিদ সামাজিক কর্মকান্ডে আত্মনিয়োগ করেন। তখনকার সময়ে হাতেগোনা গুটিকয়েক বিদ্যালয় ছিল। বহুদূর মেঠোপথ পেরিয়ে, কাঁদা মাড়িয়ে, রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে বিদ্যালয়ে গিয়ে এলাকার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করতে হতো। যার কারণে অনেকেই লেখাপড়া করতে পারতো না। তিনি এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে স্থানীয় সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে 'সবার জন্য শিক্ষা' নিশ্চিতকল্পে এলাকায় একটি বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। যার ফলশ্রুতিতে তার সুযোগ্য পুত্র বিশিষ্ট শিল্পপতি জনাব আজম জে চৌধুরী, চেয়ারম্যান-ইষ্ট কোষ্ট গ্রুপ। জনাব আজম জে চৌধুরী তাঁর বাবার একান্ত ইচ্ছে ও উদ্যোগকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে তাঁর বাবা মহতোছিন আলী চৌধুরীর নামে নিজস্ব অর্থায়নে অত্র 'মহতোছিন আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৮৯ ইং সনে প্রতিষ্ঠা করেন।
২০০০ইং সনে মহতোছিন আলী চৌধুরী তাঁর স্ত্রী মিসেস বখতুন্নেছা চৌধুরী'র নামে কুলাউড়া উপজেলা সদরে "বখতেন্নেছা চৌধুরী ডায়াবেটিক সেন্টার' প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে বিনামূল্যে সকলকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এ ডায়াবেটিক সেন্টারটি ইতোমধ্যে কুলাউড়া উপজেলায় যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে। এছাড়া তিনি নিজ এলাকায় বাড়ীর পাশে ৭ কাঠা জমি সরকারকে দান করে সেখানে 'কাদিপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র' স্থাপনে সহযোগিতা করেন। যার সুফল উক্ত এলাকার জনগণ ভোগ করছে।
স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনি তাঁর নিজ হিন্দু অধ্যুষিত এলাকার নিরীহ হিন্দু সম্প্রদায়কে আলবদর আল-শামস্ বাহিনীর বর্বর নির্যাতনের হাত থেকে প্রাণে বাঁচানোর উপায় হিসেবে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে তাদেরকে তাঁর নিজ বাড়িতে এনে আশ্রয় ও ভরণপোষণ দিয়ে তাদের জীবন রক্ষা করে এক মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
মহতোছিন আলী চৌধুরী ছিলেন একজন খ্যাতনামা শিক্ষানুরাগী, প্রথিতযশা সমাজ সংস্কারক, ন্যায়পরায়ণ স্বরপঞ্চ ও মহানুভবদানশীল ব্যক্তি। একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে তিনি মানুষের প্রতি ভ্রাতৃত্ব ও মমত্ববোধের এক উজ্জ্বল নজির তাঁর জীবদ্দশায় স্থাপন করে গিয়েছেন। অনন্তকাল মানুষের হৃদয়ে তা স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকবে।